মার্কিন সিনেটে ইরান যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিতকরণ প্রস্তাব খারিজ: ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তের পথ উন্মুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে গেছে। এর ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে এককভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকল, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব দেশটির সিনেটে ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে গেছে। সম্প্রতি সিনেটে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে একক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা অপরিবর্তিত থাকল।
'ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট'-এর অধীনে উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন পেয়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার উপর ভারসাম্য আনা এবং সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ফিরিয়ে আনা। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের পূর্বানুমতি ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন না, যদি না যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের উপর কোনো হামলার আশু আশঙ্কা থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। ইরানকে 'সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক' আখ্যা দিয়ে তিনি তেহরানের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। সম্প্রতি ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। যদিও ট্রাম্প সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধের ইঙ্গিত দেননি, তবে তিনি বারবার বলেছেন যে, তিনি আমেরিকান স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। সিনেটের এই প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের সেই অবস্থানেই শক্তি যোগালো।
সিনেটের এই ভোটাভুটি দলীয় বিভেদকে আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রস্তাবটির সমর্থনে কিছু রিপাবলিকান সিনেটর থাকলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের ক্ষমতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিরোধীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপর্যয়কর যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে, যেখানে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযম পালনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
প্রস্তাবটি নাকচ হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়ল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন কংগ্রেসের বাধা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বৃহত্তর স্বাধীনতা ভোগ করবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি তেহরানের উপর চাপ আরও বাড়াবে এবং ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নয়, সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে এই অঞ্চলের দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।






