ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: সামরিক ব্যয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবিতে বাড়ছে ধোঁয়াশা
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যেখানে পেন্টাগন বলছে এই অঙ্ক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এই পাল্টাপাল্টি দাবি আঞ্চলিক সংঘাতের জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামরিক ব্যয় নিয়ে দু'পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি। ইরান যেখানে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে, সেখানে পেন্টাগন এই অঙ্ক ২৫ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছে। এই বিশাল ফারাক দু'দেশের মধ্যে শুধু সামরিক নয়, তথ্যগত যুদ্ধকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রথম আলো এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র আবুলফজল আমুঈ এবং দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সামরিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে গেছে। তেহরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এই ব্যয় নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগও এনেছে। তাদের মতে, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ শুধু সেনা মোতায়েন বা সামরিক প্রস্তুতির পেছনেই খরচ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টার বাংলাকে জানিয়েছেন, ইরানকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যয়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা, সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ওয়াশিংটন অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, তাদের কার্যক্রম অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
দুই পক্ষের দেওয়া ব্যয়ের এই বিশাল পার্থক্য বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, 'যুদ্ধ ব্যয়' বা 'সামরিক ব্যয়' এর সংজ্ঞা নিয়ে দু'পক্ষের ভিন্ন ধারণা থাকতে পারে। ইরান হয়তো ২০০১ সালের পর থেকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সামরিক উপস্থিতি এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ছোট-বড় পদক্ষেপের ব্যয় হিসেব করছে, যেখানে পেন্টাগন হয়তো সরাসরি ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত নির্দিষ্ট অপারেশন বা প্রস্তুতির খরচ দেখাচ্ছে। এই সংখ্যাতাত্ত্বিক যুদ্ধ একদিকে যেমন নিজ নিজ দেশের জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই ব্যয়ের বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন দৈনিক ইনকিলাবের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো 'ফের যুদ্ধের দামামা' এবং যুক্তরাষ্ট্রের 'রণপ্রস্তুতি'র খবর প্রকাশ করছে। অর্থ ব্যয়ের এই হিসাব নিয়ে বিতর্ক শুধু একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক লড়াই নয়, বরং এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস ও শত্রুতার প্রতিচ্ছবি। এই ধরনের পাল্টাপাল্টি দাবি ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও জটিল করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়।






