দেশে পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে গ্রীষ্মকালীন চাষ বাড়ানোর তাগিদ
দৌলতপুরে প্রথমবারের মতো প্রণোদনা পেলেন ১০ কৃষক, ১১২ হেক্টরে চাষের লক্ষ্যমাত্রা।
ফরিদ আহমেদ, দৌলতপুর প্রতিনিধি

দেশে পেঁয়াজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ বীজ (কন্দ) উৎপাদনে ১০ জন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের উত্তর চর খলিশাকুন্ডি মাঠে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ক্ষেত ও বীজ উৎপাদনের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনকালে কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন।
চলতি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলায় ১১২ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে কর্মকর্তারা উৎপাদন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন, যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, কুষ্টিয়া খামারবাড়ির পরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) ওয়াহিদুজ্জামান।
এ সময় দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আলী আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, খলিশাকুন্ডি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হক এবং ছিলিমপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল আলীসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মকর্তারা প্রথমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের মাঠ পরিদর্শন করেন। পরে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পরিচর্যা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দেন।
তারা বলেন, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে সারা বছর দেশীয় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।






